Posts

আমার ভাষা, আমার ভালোবাসা

Image
  ভাষার প্রতি ভালোবাসা শুধু এই এক দিনের জন্য না। সবসময়ের জন্য। মায়ের প্রতি ভালোবাসা শুধু মা দিবসে দেখিয়ে লাভ নেই। এটা সবসময় প্রকাশ করতে হয়। তেমনি, দেশ-ভাষাও মাতৃ তুল্য! ভালোবাসাটা সবসময়ই দেখাতে হয়। আমার আশেপাশে এমন অনেকেই আছেন, বাংলা-ইংলিশ মিলিয়ে কথা বলেন। তারা মনে করে এটা আধুনিকতা। কিন্তু আদতে এটা ভাষার অপমান ছাড়া আর কিছুই না। বাংলাদেশের বর্তমান বেতার গুলোর প্রায় অনেক বক্তারা বাংলা কম ইংরেজি বেশি বলেন। দুই একটা শব্দ বাংলায় বলে, বাকি সব ইংরেজি। তাদের কাছে ওটাই সেরা সংস্কৃতি। ওটাই আধুনিকতা। কিন্তু বাস্তবে ওটা ভাষার অপমান। আমরা তরুন প্রজন্ম আসলে এগুলোই দেখে বড় হয়েছি। তাই আমাদের ভাষার প্রতি মমত্ববোধটা কম। এর মূল কারন কি জানেন? এর মূল কারন হচ্ছে দেশে অবাধে ভিনদেশী সংস্কৃতির প্রবেশ। অথচ, এটা ভুলে গেলে চলবে না, ভাষার জন্য একমাত্র আমরা বাঙালিরাই প্রাণ দিয়েছি। এই বাংলাদেশের বীরেরাই রক্ত দিয়ে বাংলাভাষার মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেছে। অথচ, দেখুন কি হাল! এমনো অনেককে দেখেছি, যে প্রশ্ন করেছি বাংলায় আর উত্তর দেয় ইংরেজিতে। ব্যাপার দাড়ালো যে তারা ইংরেজিতে প্রচুর দক্ষ। এটা ভালো, কিন্তু এর মানে এই না যে ভ...

সূচীর পতন ও আমাদের লাভ-ক্ষতি

Image
 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনা শুরুর কয়েক মাসের মাঝে সুচি সরকার সামরিক জান্তার গ্যারাকলে পড়লো! যারা সূচির গ্রেফতারে খুশি হয়ে বাহবা দিচ্ছেন, তাদের বলি, লাভ খুব একটা হয় নাই। মায়ানমার আজীবন চীনের গোলাম। আর এবারও চীনের ইন্ধোনেই সেই অভ্যুত্থান। চীনের মধ্যস্ততায়ই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, আবার চীনের ইন্ধনে মায়ায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সূচির পতন। আর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাধাগ্রস্ত! বন্ধই বলতে পারেন। সীমান্তে কঠোর অবস্থানে বিজিবি! কেমন হবে? যদি মায়ানমারের সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে মায়ানমার সেনাবাহিনী চীনের ইন্ধনে বাংলাদেশ সীমান্তে হামলা করে? এতে কিন্তু লাভ চীনেরই। কারন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ চীনের আদলে সাজানো, অপরদিকে মায়ানমার সেনাবাহিনীও চীনের আদলে সাজানো। চীনের অস্ত্র ব্যাবসা কিন্তু ভালোই জমবে। তাই, এবার বাংলাদেশের উচিত হবে পশ্চিমা দেশ গুলোর সাথে আলোচনা করে মায়ানমারের উপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্যাংশন আরোপে চাপ দেয়া। চীন নির্ভরতা কমিয়ে পশ্চিমা দেশ গুলোর সাথে সখ্যতা বৃদ্ধি করা। বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই মায়ানমারের পরিস্থিতিতে নিজ...

পরাশক্তি ফ্রান্সকে হারানো কি আদৌ সম্ভব?

Image
  ফ্রান্স এমন একটি দেশ, যার সামরিক সক্ষমতা আকাশ চুম্বী। ICBM, নিউক্লিয়ার ওয়েপনস সহ এমন কিছু বাদ দেই যা তাদের সামরিক বহরে নেই। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সহ তারা এখন ৫ম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট সামরিক বহরে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিখ্যাত রাফালে ফাইটার জেট ফ্রান্সে নির্মিত হয়। কিন্তু এই ফ্রান্সের যুদ্ধের ইতিহাস বড়ই করুন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার সর্বপ্রথম ফ্রান্সে আক্রমণ করে ফ্রান্সকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ব্যটেল অফ ফ্রান্স এর ঘটনা সবাই জানে। হিটলারের অপারেশন ডায়নামো নামের অভিযানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মিত্রবাহিনীর মোট ৩৪ লাখ সেনা পলায়ন করেছিলো।  ভিয়েতনাম যুদ্ধে চরম মূল্য দিয়ে বিদায় নেয় ফ্রান্স। আলজেরিয়ার সাথে ৭ বছরের চলমান যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিদায় নেয় ফ্রান্স। ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য গণহত্যা আলজেরিয়ায় চালিয়েছিলো ফ্রান্স। মোট ১৫ লাখ মানুষকে হত্যা করে তারা। কিন্তু আজজেরিয় দের প্রচন্ড আক্রমণের মুখে ফিরে আসে তারা। এরপর ন্যাটোর সদস্য হওয়ার পর বসনিয়ার যুদ্ধে ফ্রান্সের একটি ইউনিট যায় যুদ্ধ করতে এবং চরম মাইর খায়ে ফিরে আসে। সব শেষে একটাই কথা, ফ্রান্স যত শক্তিশালীই হোক...

ধর্ষণ - এর প্রতিকার কি?

Image
সম্প্রতি দেশে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার প্রশ্নে সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মন্ত্রী সারা বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখার কথা বলেছেন। প্রশ্ন রেখেছেন, কোন জায়গায় ধর্ষণ নেই? এমন কোনো দেশ নেই ধর্ষণ হয় না! (যুগান্তর - ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই প্রশ্নটা কেন করেছেন সেটা জানি না। শুধু এইটুকুই জানি ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার প্রশ্নে উনি পাল্টা সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন করেছেন। এখন এই প্রশ্নের মাধ্যমে ধর্ষকদের ধিক্কার জানানো হয়েছে না ধর্ষন বেড়ে যাওয়ার প্রশ্নে উনি বিরক্ত হয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়। আবার দেশের বর্তমান দুর্বল আইনের পক্ষে সাফাই গাওয়ার লক্ষেও বলেছেন কি না জানি না। কিছু একটা হবে হয়তো। সেটা আমাদের কারোর কাছেই পরিষ্কার না। তবে তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে ধর্ষকদের বিচার হবে। যাই হোক...... কথা বলছিলাম ধর্ষণ নিয়ে। আসলে এই বিষয়টা নিয়ে বলে লাভ হবে না জানি, কিন্তু সিলেটের গৃহবধুর উপর ঘটে যাওয়া ঐ নৃশংস ঘটনার পর আসলে না লিখে পারলাম না। দেশের আজ কি হাল ভাবুন! মানুষ কত অসহায়! স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ! আহ! কি নৃশংস! কি জঘন্য! এরকম জঘ...

তিস্তা নিয়ে সম্ভাব্য রাজনীতি

Image
  চীনের সাথে করা বাংলাদেশের তিস্তা প্রজেক্ট বাংলাদেশ, ভারত ও চীন এই তিনটি দেশের কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত বাংলাদেশের জন্য বেশি দরকার। কারন উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পানির অভাবে। আর চীনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারন চীন এটাকে ভারতের গলা চেপে ধরার জন্য ব্যাবহার করতে পারে। আর ভারত চীনের ভয়ে এটাকে বানচালের চেষ্টা করবেই। কারনটা বলছি.... রংপুরের এদিকেই ভারতের শিলিগুড়ি করিডর। এর মাধ্যমে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ কে যুক্ত করেছে। আর এই করিডর এলাকা মূলত চিকেন নেক হিসেবেই পরিচিত। এরপর আছে নেপাল ও ভূটান। আবার ঐদিকেরই একটা বিতর্কিত এলাকা আছে, যাকে চীনের ডকলাম প্লে বলা হয়। এই ডকলাম মূলত ভূটানের হলেও চীন এটাকে দখল করে নেয়। এই ডকলাম সীমান্ত ভারতের সিক্কিম এর কাছাকাছি। চিকেন নেক হতে ডকলাম প্লে খুব দূরে না। আবার এই সিক্কিমেও কিন্তু চীনেত দাবি আছে। আর ডকলামে নিরাপত্তার জন্য চীন সর্বদা সেনা মোতায়েন করে রাখে। এখন তিস্তা চুক্তিতে চীন ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এটা নিশ্চিত এবং এই প্রজেক্টও চীন হ্যান্ডেল করবে। যা আমাদের জন্য সুখকর হলেও ভারতের জন্য দুঃস্বপ্ন। যার জন্য কিছুদিন আগে শ্রিংলা বাংলাদেশ সফ...

দুনিয়া সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ কি করছিলেন? আর এই প্রশ্ন করা কি জায়েজ?

Image
শুরু করার আগে বলেনেই, যেহেতু এটা ইসলামিক গবেষণামূলক লেখা সেহেতু এটা একটু বড় হতে পারে। ধৈর্য নিয়ে পড়ার অনুরোধ রইলো।  আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, এই দুনিয়া সৃষ্টির আগে আল্লাহ কি করেছিলেন? নাস্তিকরা তো এই প্রশ্ন করে একবারে আকাশে ভাসে। কারন আমার আপনার মতো সাধারণ মুসলিম কোনদিনও এটার উত্তর দিতে পারবে না। অতঃপর তাদের পাল্লা ভারি হবার সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়। কিন্তু, একবার যদি গভীর ভাবে এটা নিয়ে ভাবুন, উত্তর পেয়ে যাবেন। কারন স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন - “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই যিনি তাঁর দাসের প্রতি এই কিতাব (আল কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন এবং এতে তিনি অসঙ্গতি  রাখেননি।” - (আল কুরআন, সুরা কাহফ ১৮ : ১)। এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে..... পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন -- "বলুন - তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবে যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে আর তোমরা তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে চাও? তিনি তো জগতসমূহের প্রভু। তিনি ভূপৃষ্ঠে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে রেখেছেন কল্যাণ এবং চার দিনে ব্যবস্থা করেছেন খাদ্যের - যাঞ্চাকারীদের জন্য সমভাবে। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেন যা ছিল ধূম্রপুঞ্জ বিশেষ। অতঃপর তিনি ওটা...

সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় সমুহ খুলে দেয়াটা আদতে কতটা যৌক্তিক?

Image
 করোনার করাল গ্রাসের শিকার বাংলাদেশের শিক্ষার খাত। সেই মার্চ মাস হতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অপর দিকে সময়ের সাথে সাথে দেশের সব কিছু খুলে দেয়া হলেও বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর কারন হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। আসলে এই সিদ্ধান্ত কে আমিও সমর্থন করি। কেননা আমরা যতই স্বাস্থ্য বিধির কথা বলি না কেন, সেটা আসলে অতটাও মানা হয় না , যতটা প্রয়োজন। চাইলেও মানা হয় না। মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের জন্যই মানুষ মানতে পারে না। এরই মাঝে বিভিন্ন গনমাধ্যমের বরাতে জানতে পারছি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি অথবা শেষ দিকে হয়তোবা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে । ধারনা করা হচ্ছে ঐ সময় নাকি বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আর এই সংবাদ শোনার পর অনেক শিক্ষার্থীদের মাঝেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে! কেননা, বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি হিসেবে করোনা আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২৭১৮৮১ জন। মোট মৃত্যু ৩৫৯১ জন । যা বর্ধনশীল। এরই মাঝে দেশের স্বনামধন্য বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃত্যু বরন করেছেন। যেমন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ...